ফতুল্লা ডিপো থেকে তেল পাচার: যমুনা টিভির রিপোর্টের পর তদন্তে ৩ শক্তিশালী কমিটি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ডিপো থেকে ভুয়া এজেন্সির নাম ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ তেল পাচারের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। যমুনা টেলিভিশনের একটি সাহসী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র ফুটে ওঠার পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট তিনটি দপ্তর পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে বর্তমানে তিনটি আলাদা কমিটি কাজ করছে:
মন্ত্রণালয়ের বিশেষ দল: একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এই কমিটি ডিপো থেকে তেল সরবরাহের প্রতিটি ধাপ এবং প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখবে। তারা বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড: অভ্যন্তরীণ অনিয়ম খতিয়ে দেখতে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি): দেশের প্রধান জ্বালানি সংস্থা বিপিসি থেকেও এ বিষয়ে আলাদা একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, একটি অসাধু চক্র অন্যের লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে বেনামী প্রতিষ্ঠানের নামে প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার থেকে ২২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল পাচার করে আসছিল। বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থা চালু থাকলেও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তেল সরবরাহ করা হতো। যমুনা টিভির প্রতিবেদনে এই জালিয়াতি সামনে আসতেই টনক নড়ে প্রশাসনের। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।