ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক: পারস্পরিক সহযোগিতায় এগোচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কোনো নতুন সূচনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক নৈকট্যের ভিত্তিতে এই বন্ধন ‘ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবে’ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। সম্প্রতি মরিশাসে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দুই দেশের বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্কের এই ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন:
জ্বালানি নিরাপত্তা: বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত বাংলাদেশকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ করে বড় ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ এই সরবরাহ আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানালে ভারত তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
পানি বণ্টন চুক্তি: ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের ব্যাপারে মন্ত্রী যথেষ্ট আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, গঙ্গার পানি দুই দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সাথে সরাসরি জড়িত, তাই একটি ন্যায্য ও জলবায়ু-সহনশীল বণ্টন কাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো 'জিরো-সাম' গেমে বিশ্বাসী নয়। অন্য দেশের (যেমন চীন) সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ভারতের ভূমিকা বাংলাদেশের কাছে কোনো বহিরাগত শক্তি নয়, বরং একটি অপরিহার্য ও কাঠামোগত অংশীদার হিসেবে বিবেচিত।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও গুরুত্ব দেন সীমান্ত যোগাযোগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর। মূলত পারস্পরিক আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমেই এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামীতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।