পাবলিক পরীক্ষায় আর থাকছে না বিতর্কিত ‘নীরব বহিষ্কার’ নিয়ম।

 


পাবলিক পরীক্ষায় ‘নীরব বহিষ্কার’ প্রথা বাতিল: স্বস্তিতে পরীক্ষার্থীরা

পাবলিক পরীক্ষায় দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ও আতঙ্কের নাম ‘নীরব বহিষ্কার’ পদ্ধতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৬-এর ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদটি বাতিলের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি আনা হয়।

বাতিলকৃত এই নীতিমালায় উল্লেখ ছিল—যদি কোনো পরীক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে বহিষ্কার করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার বা কক্ষ পরিদর্শকের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে তাকে ‘নীরব বহিষ্কার’ করা যাবে। অর্থাৎ, পরীক্ষার্থীকে সরাসরি কিছু না জানিয়েই তার পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র আলাদা প্যাকেটে গোপন প্রতিবেদনের মাধ্যমে বাতিলের জন্য পাঠানো হতো। এই নিয়মটি জানাজানি হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকের আশঙ্কা ছিল, এই আইনের অপব্যবহার করে কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

গত ১৮ এপ্রিল সচিবালয়ে আয়োজিত এক সভায় যমুনা টেলিভিশনের এক প্রতিবেদক বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর নজরে আনেন। মন্ত্রী জানান, তার অগোচরেই এই বিতর্কিত বিষয়টি নীতিমালায় যুক্ত করা হয়েছিল। তিনি শিক্ষার্থীদের ভীতি দূর করতে তাৎক্ষণিকভাবে এটি বাতিলের নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয়ক কমিটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এখন থেকে পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে এই ‘নীরব বহিষ্কার’ প্রথা আর কার্যকর থাকবে না।


Post a Comment

Previous Post Next Post