নকলের ‘দাফন’ হলেও কেন এর পুনর্জন্ম? শিক্ষামন্ত্রীর উদ্বেগ ও দিকনির্দেশনা
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহাছানুল হক মিলন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেছেন যে, এক সময় তিনি পরীক্ষার হল থেকে নকলের ‘দাফন-কাফন’ সম্পন্ন করেছিলেন, কিন্তু বর্তমানে এটি যে পুনরায় ফিরে আসবে তা তাঁর ধারণার বাইরে ছিল। সম্প্রতি ঢাকা অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার নেতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে নকল প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু এখন নকলের ধরন বদলে গেছে। বর্তমানে ‘ডিজিটাল নকল’ শুরু হয়েছে এবং দুঃখজনকভাবে কিছু শিক্ষক সরাসরি শিক্ষার্থীদের খাতায় উত্তর লিখে দিয়ে এই অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, শিক্ষার্থীরা হলো ‘কাদামাটি’ বা ‘ব্র্যান্ড নিউ’; তারা শিখতে আসে। তাই নকলে জড়িয়ে পড়ার দায় শিক্ষার্থীদের নয়, বরং শিক্ষক ও সরকারের ওপরই বর্তায়। যদি শিক্ষকরা ক্লাসরুমে সঠিকভাবে পাঠদান করেন, তবে ছাত্ররা অবশ্যই শিখবে।
শিক্ষার মান উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্লাসরুমে যথাযথ পড়াশোনা না হওয়ায় অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে সন্তানদের প্রাইভেট টিউটর বা কোচিং সেন্টারে পাঠাচ্ছেন। বর্তমানে স্কুল আর কোচিং সেন্টারের মধ্যে পরিকাঠামোগত কোনো পার্থক্য নেই। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদের ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার মানসিকতা পরিহার করে দায়িত্বশীল হতে হবে। নকলের এই পুনর্জন্ম রোধে এবং প্রকৃত মেধা বিকাশে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।