বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট: কোন দেশ কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে?
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং দাম হু হু করে বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভিন্ন ভিন্ন কৌশলী পদক্ষেপ নিয়েছে:
মজুত ও নিয়ন্ত্রণ: চীন আগে থেকেই প্রায় ৯০ কোটি ব্যারেল তেল মজুত করে রেখেছে এবং বর্তমানে তেলজাত পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। ভারতও আগামী ৬০ দিনের জন্য পর্যাপ্ত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করেছে।
ভর্তুকি ও কর ছাড়: আয়ারল্যান্ড পেট্রল-ডিজেলের ওপর কর কমিয়েছে এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য হিটিং অয়েলে সহায়তা বাড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ৫৩ মিলিয়ন পাউন্ডের সহায়তা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করছে।
পরিবহনে ছাড় ও রেশনিং: অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি রাজ্যে গণপরিবহন ব্যবহার বাড়াতে ভাড়া পুরোপুরি মওকুফ করা হয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা তেলের তীব্র সংকটে পড়ে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের জন্য তেলের রেশনিং ব্যবস্থা (সপ্তাহে নির্দিষ্ট লিটার) চালু করেছে।
সাশ্রয়ী নীতিমালা: মিসর রাত ৯টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ এবং কর্মীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর নির্দেশ দিয়েছে। ফিলিপাইনস ৪ দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে। থাইল্যান্ড এসি সাশ্রয়ে হালকা পোশাক পরার এবং নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় এসি চালানোর অনুরোধ করেছে।
জরুরি ব্যবস্থা: ইথিওপিয়া জ্বালানি সরবরাহে নিরাপত্তা বাহিনী ও জরুরি শিল্পকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।
মূলত আমদানিনির্ভর দেশগুলো তাদের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে সাশ্রয়ী নীতি ও ভর্তুকির ওপর জোর দিচ্ছে।