এবার মঙ্গল বা আনন্দ নয়, হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’: নাম পরিবর্তনের নতুন ঘোষণা
পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রার নাম নিয়ে চলমান বিতর্ক নিরসনে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, এবার থেকে এই উৎসবের নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই নতুন নামের ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী জানান, ‘মঙ্গল’ বা ‘আনন্দ’—এই নামগুলো নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিভেদ ও বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে এবং সকল মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার কোনো নির্দিষ্ট ভাবগত শব্দের পরিবর্তে ঋতুভিত্তিক ও নিরপেক্ষ নাম ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ চূড়ান্ত করেছে। এখন থেকে প্রতিবছর এই নামেই নববর্ষের শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও পরিবর্তনের কারণ: ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ যখন প্রথম এই যাত্রা শুরু করে, তখন এর নাম ছিল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’। ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় এটি ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে পরিচিতি পায় এবং ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি লাভ করে। তবে গত বছর এর নাম পরিবর্তন করে পুনরায় ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ রাখা হয়েছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নাম নিয়ে নতুন করে মতভেদ তৈরি হওয়ায় সরকার একটি ‘তৃতীয় পথ’ হিসেবে এই সর্বজনীন নামটি বেছে নিয়েছে।
নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি: আসন্ন পহেলা বৈশাখ উদযাপনে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শোভাযাত্রা চলাকালীন পুলিশের পাশাপাশি বিএনসিসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। কোনো প্রকার বিভাজন নয়, বরং বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য বজায় রেখে বর্ণিল আয়োজনে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।