সরাইল হাসপাতাল নিজেই যেন এক রোগী: সংসদে রুমিন ফারহানার ক্ষোভ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরাজীর্ণ অবস্থা তুলে ধরে একে ‘রোগাক্রান্ত’ হাসপাতাল হিসেবে অভিহিত করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকার স্বাস্থ্যসেবার এই করুণ ও বেহাল চিত্র তুলে ধরেন।
সরাইল উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র প্রধান ভরসা এই হাসপাতালটি। অথচ বিশাল এই বিশাল জনগোষ্ঠীর বিপরীতে শয্যা সংখ্যা মাত্র ৫০টি, যা চাহিদার তুলনায় একেবারেই নগণ্য। রুমিন ফারহানা সংসদে জানান, হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও কর্মচারীর চরম অভাব রয়েছে। এছাড়া জীবনদায়ী ওষুধ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকটে সাধারণ মানুষ নিয়মিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে ডাক্তার ও স্টাফসহ গুরুত্বপূর্ণ ৬৪টি পদ শূন্য পড়ে রয়েছে।
হাসপাতালের অবকাঠামোগত সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালের একটি নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ায় সেই নির্মাণকাজ মাঝপথেই বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরনো একটি দোতলা ভবনে হাসপাতালের যাবতীয় কার্যক্রম কোনোরকমে চালানো হচ্ছে। পর্যাপ্ত জনবল, ওষুধ এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। এই সংকট নিরসনে দ্রুত শূন্যপদ পূরণ এবং হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।