রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: বাংলাদেশের নতুন শক্তির যাত্রা
বাংলাদেশ এখন গর্বিত পারমাণবিক শক্তির দেশ। পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী অভিজাত ক্লাবে নাম লেখালো বাংলাদেশ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই ঐতিহাসিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
সব ঠিক থাকলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই ইউনিটের বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে। এই কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, একবার জ্বালানি লোড করলে তা দিয়ে টানা দেড় বছর (১৮ মাস) নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ফলে কয়লা বা তেলচালিত কেন্দ্রের মতো বারবার জ্বালানি আমদানির ঝামেলা থাকবে না। প্রতি দেড় বছর পর পর মাত্র এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি পরিবর্তন করলেই চলবে।
প্রকল্পটিতে ১,২০০ মেগাওয়াট করে মোট দুটি ইউনিট রয়েছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ ক্ষমতায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১২ শতাংশ পূরণ করবে। দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি লোডিংও এ বছরের শেষ নাগাদ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই বিশাল প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। কেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর হলেও আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এটি ৯০ বছর পর্যন্ত সেবা দিতে পারবে। সাশ্রয়ী ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহে রূপপুর প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় এক নতুন মাইলফলক।