একাত্তরের ভূমিকা ও মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিল নিয়ে সংসদে যা বললেন জামায়াত আমির!

 


একাত্তরের ভূমিকা ও মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিল নিয়ে সংসদে জামায়াত আমিরের বক্তব্য

জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধনী) বিল-২০২২’ পাসের সময় একাত্তরের ভূমিকা ও দেশের গণতন্ত্র নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ওই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল, তা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। মানুষ কেবল আংশিক সাক্ষী হতে পারে, কিন্তু আল্লাহই পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী।

সংসদে পাস হওয়া এই বিলে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম সহযোগী সংগঠনের তালিকায় বহাল রাখা হয়েছে। শফিকুর রহমান এই সংজ্ঞায়নের বিরোধিতা করে বলেন, স্বাধীনতার পর কোনো শাসক এই তালিকা বা সংজ্ঞা আনেননি। এটি শেখ হাসিনার আমলের একটি 'বিকৃত' ধারা, যা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সামান্য পরিবর্তন করে বজায় রেখেছে।

বক্তব্যে তিনি ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জিয়াউর রহমানের অবদানের প্রশংসা করেন এবং বাকশাল গঠনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, মুক্তিযোদ্ধারা একটি মানবিক দেশ ও ন্যায়বিচার চেয়েছিলেন, কিন্তু স্বাধীনতার পর একদলীয় শাসনের মাধ্যমে জনগণের রায়কে অস্বীকার করা হয়েছিল। বিরোধীদলীয় নেতা বিলটির ওপর দীর্ঘ বক্তব্য দিলেও এর কোনো সুনির্দিষ্ট ধারার সংশোধনী প্রস্তাব করেননি। ফলে স্পিকারের অনুমতিতে বিলটি শেষ পর্যন্ত কণ্ঠভোটে পাস হয়। সবশেষে তিনি জাতিকে বিভক্ত না করে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সম্মানীত জাতি হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post