চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা: ঐতিহ্যের রঙে অশুভ বিনাশের ডাক
‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’— এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে বের হয়েছে বর্ণিল ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের পদচারণায় পুরো ক্যাম্পাস এখন উৎসবের নগরী। এবারের আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং একটি কল্যাণময় সুন্দর ও গণতান্ত্রিক আগামী গড়া।
শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে পাঁচটি বিশেষ মোটিফ: মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়া। প্রতিটি মোটিফ ভিন্ন ভিন্ন বার্তা বহন করছে। মোরগ তুলে ধরছে নতুন জাগরণ ও আলোর আগমনকে, যা অন্ধকার দূর করার ইঙ্গিত দেয়। দোতারা বাঙালির সাংস্কৃতিক শেকড় ও লোকসংগীতের মহিমা প্রকাশ করে। কাঠের হাতি শক্তি ও আভিজাত্যের প্রতীক এবং টেপা ঘোড়া মনে করিয়ে দেয় গ্রামবাংলার সহজ-সরল শৈশবকে। আর শান্তির প্রতীক হিসেবে সম্প্রীতির বার্তা দিচ্ছে পায়রা। এছাড়া বাঘ, হরিণ ও ময়ূরের মতো রঙিন লোকজ প্রতিকৃতিগুলো শোভাযাত্রায় এনেছে অনন্য এক দৃশ্যপট।
উৎসবের আনন্দকে নির্বিঘ্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে ব্যাগ বহন, মুখোশ পরা এবং শব্দদূষণকারী ভুভুজেলা বাঁশি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জরুরি সহায়তার জন্য টিএসসিতে স্থাপন করা হয়েছে হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম ও অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প। কঠোর শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে বাঙালির প্রাণের এই উৎসব তার চিরচেনা ঐতিহ্যে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে।