বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় ধাক্কা? সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত।

 


বিচার বিভাগের সংস্কার ও অধ্যাদেশ বাতিল নিয়ে আইনজীবীদের বিভক্ত মত

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিভিন্ন অধ্যাদেশ বাতিল ও সংশোধন নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠন এবং বিচারক নিয়োগের লক্ষ্যে যে অধ্যাদেশগুলো জারি করা হয়েছিল, বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার সেগুলোকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সাবেক সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিকী এই সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ রহিত করা হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে। তার মতে, জুলাই অভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা জরুরি ছিল। মানবাধিকার কমিশনের মতো স্বাধীন সংস্থাগুলো সরাসরি মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে গেলে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ আইন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান খান বর্তমান সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, আগের অনেক অধ্যাদেশ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। বিশেষ করে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে ৪৫ বছর বয়সের যে অতিরিক্ত শর্ত দেওয়া হয়েছিল, তা সংবিধানে নেই। তিনি মনে করেন, নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব হলো অসামঞ্জস্যতা দূর করে আইনগুলোকে আরও বাস্তবমুখী ও শক্তিশালী করা।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি পাসের সুপারিশ করা হলেও ২০টি নিয়ে আপত্তি উঠেছে এবং ৪টি বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে। তবে দুই পক্ষই একমত যে, কেবল আইনি কাঠামো নয়, সংস্কার সফল করতে হলে আইনপ্রণেতাদের সদিচ্ছা এবং সঠিক বাস্তবায়ন সবচেয়ে বেশি জরুরি।

Post a Comment

Previous Post Next Post