ভারতের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও বিহারের গভর্নর আরিফ মোহাম্মদ খান আসছেন ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার হয়ে
ঢাকায় ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন বিহারের বর্তমান গভর্নর এবং দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী আরিফ মোহাম্মদ খান। কূটনৈতিক ইতিহাসে একজন বর্তমান রাজ্যপাল বা সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর ঘটনা অত্যন্ত বিরল। সাধারণত পেশাদার কূটনীতিকদের এই পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও, এবার একজন ঝানু রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার।
আরিফ মোহাম্মদ খান ভারতের রাজনীতির এক অত্যন্ত আলোচিত ও সাহসী ব্যক্তিত্ব। আশির দশকে রাজীব গান্ধী সরকারের কনিষ্ঠ মন্ত্রী থাকাকালীন তিনি 'শাহ বানু' মামলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রগতিশীল রায়ের পক্ষে অবস্থান নেন। তৎকালীন সরকার রক্ষণশীলদের চাপে পড়ে যখন পিছু হটছিল, তখন তিনি প্রতিবাদস্বরূপ মন্ত্রিসভা ও কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। সাম্প্রদায়িক ও রক্ষণশীল রাজনীতির বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান তাকে ভারতীয় রাজনীতিতে এক অনন্য উচ্চতা দিয়েছে। পরবর্তীতে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে বিহারের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভারতের পক্ষ থেকে এত হেভিওয়েট বা বড় প্রোফাইলের একজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ও দিল্লি—উভয় মহলেই ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ভারতের কেন্দ্রীয় পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হতে পারে। মূলত বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতেই মোদি সরকার এমন নজিরবিহীন কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তার এই নিয়োগের ফলে দুই দেশের রাজনৈতিক ও উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগে এক নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।