রেলপথে ৫ বছরে ৫০০০ প্রাণহানি: আমরা কি সচেতন হবো না?

 


রেলপথে বিশৃঙ্খলা ও মৃত্যুর মিছিল: জনসচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগই কি একমাত্র সমাধান?

বাংলাদেশের রেললাইনগুলো যেন বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত ৫ বছরে (২০২১-২০২৫) ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৫ হাজার ৯৮ জন মানুষ। এর মধ্যে রেললাইনের ওপর হাঁটা বা বসার কারণে মারা গেছেন প্রায় আড়াই হাজার জন। কানে ইয়ারফোন দিয়ে অসচেতনভাবে রেললাইনে চলাফেরা করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন ১৬৬ জন। এছাড়া, ঝুঁকি নিয়ে রেল ক্রসিং পার হতে গিয়ে ১ হাজার ৬৮১ জন এবং ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬৯ জনের।

রেলপথে এই অনিয়মের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ১৮৯০ সালের পুরনো ও দুর্বল আইন। বর্তমান আইনে রেল সীমানায় বিনা অনুমতিতে প্রবেশের জরিমানা মাত্র ২০ থেকে ৫০ টাকা, যা বিশৃঙ্খলা রোধে একেবারেই অপ্রতুল। যদিও নতুন আইনের খসড়ায় এই জরিমানা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা এবং অবৈধ রেলগেট তৈরির শাস্তিস্বরূপ ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, তবে এর প্রয়োগ নিয়ে রয়ে গেছে বড় প্রশ্ন।

সারাদেশে ১ হাজার ৯৩৪টি রেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ৭২৫টিই অবৈধ। অনেক জায়গায় নেই গেটম্যান বা সংকেত ব্যবস্থা। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, জনবল সংকটের কারণে তারা সবসময় আইন কার্যকর করতে পারছে না। রেললাইনে সবসময় ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও সাধারণ মানুষের অসচেতনতা এবং বারবার উচ্ছেদের পর আবারও জায়গা দখলের প্রবণতা এই বিশৃঙ্খলাকে জিইয়ে রাখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন প্রণয়ন নয়, বরং আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতাই পারে রেলভ্রমণকে নিরাপদ করতে।

Post a Comment

Previous Post Next Post